তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে উঠে আসা এক তরুণ, যার চোখে ছিল বড় স্বপ্ন। স্বপ্নটা সত্যি করে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ইতিহাস গড়েছেন ২০ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ভ্যাংকুভারে তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেন। আর এতেই সকারুদের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ স্কোরার হওয়ার গৌরব নিজের করে ফেলেন। একই সঙ্গে প্রথম বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে গোলের দেখা পেলেন। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাব ছাড়ার এক অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের গল্প!
২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড থেকে জার্মানির অন্যতম সফল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন ইরানকুন্ডা। সেখানে হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। আর এই নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টিই তার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার স্বপ্নকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েন।
বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে গত গ্রীষ্মে একটি বড় জুয়া খেলেন ইরানকুন্ডা। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ফুটবল পরাশক্তি ছেড়ে মাঠের খেলায় নিয়মিত হওয়ার আশায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইরানকুন্ডা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছে চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।’
ওয়াটফোর্ডের হয়ে ৪২ ম্যাচে মাঠে নেমে চারটি গোল এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের ফর্মের প্রমাণ দেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেন।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে এক দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোল করেই নিজের অন্যতম বড় ফুটবল অনুপ্রেরণা টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। ম্যাচের পর জানান, টিম কাহিল ও লিওনেল মেসিই তার ফুটবল জীবনের মূল অনুপ্রেরণা। খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ইরানকুন্ডা যোগ করেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য এবং স্বপ্নটা সত্যি হলো।’
তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে তাকে ‘হুডিনি’ আখ্যা দিয়ে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে তুলনা করেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ম্যানেজার অ্যাঞ্জ পোস্টেকোগলুও তার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রশংসা করে বলেন, ‘একটি ভালো বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।’ বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে আসার যে ঝুঁকি ইরানকুন্ডা নিয়েছিলেন, আজ তা শতভাগ সফল।