
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দেওয়ার কারণেই সিলেটের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘সিলেটের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কী কারণে? তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মাজারে কোনো মাদক চলবে না। সরকারের পুরো সিন্ডিকেট এই মাদকের সঙ্গে জড়িত। লাখ লাখ কোটি টাকার এই ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকে তারা স্থিতিশীল থাকতে দেয় না। কারণ, মাদকসেবীরাই তাদের অনুসারীতে পরিণত হয়।’
তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে বর্তমানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত রয়েছে এবং সংগঠনটির সাবেক সদস্যদের সংখ্যাও কোটি ছাড়িয়েছে। শিবির সমাজে আদর্শবান, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও ডিলারশিপ ছাত্রশিবির ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ হয়েছে, সেখানে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা বলেছি। এরপর একটি কমিউনিটি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখন তারা ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা বা সেবন করতে পারে না; দূরে গিয়ে করতে হয়। এতে তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মো. মেহেদী হাসান। সঞ্চালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান ও শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।
এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান ও জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।