ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন গণঅভ্যুত্থানে হাসনাত-সারজিস আওয়ামীলীগের এজেন্ট হয়ে কাজ করছিলো: রাশেদ খাঁন আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত রূপকল্প: "Science to Economy" জামায়াত গণতান্ত্রিক দল কি না, আমিরকেই বিবেচনা করা উচিত: মির্জা ফখরুল বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানী তেলের দাম অবস্থান প্রত্যাহারের কথা জানালো ককরোচ জনতা পার্টি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি এবারের আসর লক্ষীপুর জেলায় ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মেঘমল্লার বসু’র পদত্যাগ ককরোচ’দের আন্দোলনের চাপে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরানো গ্রহণযোগ্য হবে না: রাহুল গান্ধী ল্যাপটপ ব্যাবহারে পাচঁটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে খতিয়ে দেখা হবে: আইনমন্ত্রী বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করতে চাই: পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম টানা বৃষ্টিতে সবজির বাজারে আ/গুন টানা বৃষ্টিতে সবজির বাজারে আগুন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাশে আছি: নেহা কক্কর গ্যাস সংকটে পড়েছে ঢাকা, স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না: ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা

ইরানের হামলায় মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস

ইরানের হামলায় মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বহরে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে থাকা মোট ড্রোনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। আবার অনেকগুলো ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।

এমকিউ-৯ রিপার মূলত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নজরদারি ড্রোন, যা একই সাথে হেলফায়ার মিসাইল বা গাইডেড বোমার মতো ভারী অস্ত্র বহন ও নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ব্লুমবার্গের জানায়, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যাটি চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর দেওয়া তথ্যের (২৪টি) চেয়েও বেশি। ড্রোনের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ‘বিধ্বস্ত’ করে দেওয়া হয়েছে। তবে একের পর এক মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত কার্যকর ও শক্তিশালী। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে একজন মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা সম্ভবত ওই অঞ্চলে মার্কিন ফাইটার জেট ও বোমারু বিমানের নিয়মিত ওড়ার পথ বা ‘ফ্লাইট প্যাটার্ন’ নিখুঁতভাবে ম্যাপ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে ট্রাম্প যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

এই প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে সাহায্য করে আসছে। মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যবস্থার পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মিশ্রণ ব্যবহার করছে।

গত এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েকদিন আগে ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, যা ওয়াশিংটনকে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়।

এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়। মিডল ইস্ট আই-এর পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেই যুদ্ধের পরই চীন ইরানকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল। বেজিং ও মস্কোর এমন কৌশলগত সহায়তায় শক্তিশালী হয়ে ওঠা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।


নিউজটি আপডেট করেছেন : এসএএস

কমেন্ট বক্স