ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋদ্ধস্বর আবৃত্তি একাডেমির দেড় দশক পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপিত দিন গোনা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী নতুন করে এলজিআরডি মন্ত্রী হলেন সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি অবৈধ অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে: জ্বালানিমন্ত্রী প্রায় দুই যুগ পর ইরাক থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিন থেকে সবার দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরাইল: এরদোয়ান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী দিতে জরুরি বৈঠকে বিএনপি প্রশাসনের প্রতিটি জায়গায় জামায়াত-আ.লীগ: পাপিয়া গণতন্ত্র টেকসই করতে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন: ‎পানিসম্পদ মন্ত্রী দলের অনুগতদের ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিচ্ছে বিএনপি ত্রিশ বছর পর শাবনূরকে নিয়ে ভিন্ন কথা বলছেন সালমান শাহের মা অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে হাসান মাসুদের যতো কথা বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ভুলবশত নিজেদের সরঞ্জাম ধ্বংস করল ইসরাইল শেখ মুজিবের সহধর্মিণীর নামে হওয়ায় স্কুল সরকারি, ১৬ শিক্ষক ৩ পাস ১২ফেল সাকিব আল হাসান নষ্ট, পচে যাওয়া মানুষ: তথ্য উপদেষ্টা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ায় ইবিতে বিক্ষোভ নতুন নিয়মে আসছে ইউটিউব থেকে আয় এনটিআরসিএ বহালের দাবিতে বেরোবিতে বিক্ষোভ সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা

ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা, দৌড়ে পালালেন সরকারি কর্মচারী

ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা, দৌড়ে পালালেন সরকারি কর্মচারী ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীর কাছে ঘুষের টাকা নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে কালবেলার ক্যামেরায়। হাতেনাতে ধরার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী নাঈম ইসলাম উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সর্দার গ্রামের বাসিন্দা এবং ইটাকুমারী ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তার জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে দেখেন তার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে অন্যত্র নিবন্ধন করা হয়েছে। পরে সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলা হলে তিনি ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী মমিনুল ইসলামের কাছে আবেদন জমা দেন।

নাঈম ইসলামের অভিযোগ, গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দফায় দফায় ঘুরিয়েছেন অফিস সহকারী মমিনুল ইসলাম। একপর্যায়ে কয়েকদিন আগে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। পরে দর-কষাকষির পর কমিয়ে ৩ হাজার টাকা চান।

    তিনি আরও বলেন, এ সময়ের মধ্যে ওই কার্যালয়ে অন্তত ১২-১৫ বার মমিনুল ইসলামের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। প্রায় প্রতিবারই তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নামে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন।

মঙ্গলবার ওই টাকার জন্য সকাল থেকে তাকে ফোন দিতে থাকেন অফিস সহকারী মমিনুল। পরে নাঈম ইসলাম টাকা নিয়ে দুপুরের দিকে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এসে তাকে ফোন দিলে তিনি জানান, অফিস থেকে তিনি বের হয়েছেন এবং তার সঙ্গে রেলওয়ে স্টেশনের পাশে শিমুলতলায় টাকা নিয়ে দেখা করতে হবে।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে নাঈম ইসলামের দেখা হয়। সেখানে আরও তিনজন ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযোগ করে জানান, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য অফিস সহকারী মমিনুল ইসলামকে টাকা দিলেও এরপর থেকে তিনি তাদের ফোন রিসিভ করছেন না। একপর্যায়ে কয়েকজনের মোবাইল নম্বর পর্যন্ত ব্লক করে দেন তিনি।

এরপর মমিনুলকে ফোন দিয়ে টাকা টাকা নিতে উপজেলা পষদের গেটে ডাকলে তিনি নাইম ইসলামকে রেলস্টেশনের পাশে শিমুলতলায় আসতে বলেন। পরে নাইমসহ অন্য ভুক্তভোগীদের নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন শিমুলতলায় যায়। প্রথমের দিকে নাঈম ইসলাম টাকা নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদ উপস্থিত হন। এসময় তার নাম মমিনুল কি না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে তিনি জানান, তার নাম মমিন এবং তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকরি করেন। এসময় নাইমের কাছে কিসের টাকা নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি চেনেন না বলে জানান।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে মাইমুনা খাতুন নামে আরেক ভুক্তভোগী সেখানে হাজির হয়ে তার সামনেই তাকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেন। এ সময় তার কাছে টাকা নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি টাকা ফেরত দেবেন বলে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী মাইমুনা খাতুন বলেন, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদনের সময় তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা চান মমিনুল ইসলাম। কিন্তু আমার কাছে এতো টাকা না থাকায় ৫০০ টাকা দিয়েছি। তারপর থেকে মমিনুল আর আমার ফোন ধরছেন না, ফোন নম্বরটি ব্লক করে রেখেছে সে।

গোলাপ মিয়া নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ইউএনও’র স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বলে মমিনুল আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয় নাই।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত মমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন সাংবাদিকদের বলেন, জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম তার হাতে নেই। সে যদি এমন কিছু করে থাকে তাহলে ভুল বুঝিয়ে করেছে। কোনো সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি বা অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


নিউজটি আপডেট করেছেন : এসএএস

কমেন্ট বক্স
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

ad300