ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আ. লীগের মতো একটি বড় দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়: জি এম কাদের দূরত্ব ও সময় কমাতে ঢাকা-কুমিল্লা রেলওয়েতে হচ্ছে কর্ডলাইন আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে শত্রুরা: ইরানের সেনাবাহিনী ডিসেম্বরে আসছে রাফী-নিশোর ‘সুড়ঙ্গ ২’ শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মাঠে ফেভারিট স্পেনের সামনে নবাগত কেপ ভার্দে তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু সুইডেনের নতুন অর্থবছরে জবির রাজস্ব বাজেট ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা শিবির নেতাকে নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় অনেক প্রশ্ন, মিলছে না জবাব চিঠি পেয়েও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা প্রকাশ পেল হৈমন্তী রক্ষিতের দুই গান ফ্যাসিবাদী জনকণ্ঠকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে বাধ্য করা হবে সাইবার হামলার শিকার ইরানের ৪ ব্যাংক সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বাজেট ঘোষণার পর একটি পণ্যেরও দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠকে বসছে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আবু সাঈদ হত্যায় দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ মিডিয়া এখন বিজনেস হাউজের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে আত্মসমর্পণ করছেন ট্রাম্প’

শিবির নেতাকে নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় অনেক প্রশ্ন, মিলছে না জবাব

শিবির নেতাকে নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় অনেক প্রশ্ন, মিলছে না জবাব ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান মিয়া অপহৃত না আত্মগোপনে ছিলেন তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয় গেছে। গত শুক্রবার রাতে লাকসাম থেকে উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল।

তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, সে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিল। তবে গতকাল রোববার দাউদকান্দি থানার ওসি এম এ বারীর সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ওসি বারী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জিসানের বড় ভাই রাসেল রাফি দাউদকান্দি থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। জিসানের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে জানতে পারি লিজা আক্তার নামে এক মেয়ের সঙ্গে তার কয়েক মাস ধরে কথোপকথন চলছে। এই সূত্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার বাড়ি থেকে লিজাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসি।’

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে লিজা জানান, তার সঙ্গে জিসানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের দিন-তারিখ ধার্য করেও সে উধাও হয়ে যায় । বিয়ে না করে উল্টো অপহরণের নাটক করে জিসান। এজন্য ১৩ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে জিসানের নামে ধর্ষণের মামলা করেন লিজা।

ওই নারী যদি আসলেই ভিকটিম হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি জিসান উদ্ধার হওয়ার আগেই কেন মামলা করলেন না? উদ্ধার হওয়ার পরেই কেন মামলা করতে হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বারী বলেন, ‘জিসানকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা যখন উদ্ধারকাজে মাঠে নামি, তখন লিজার সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টা সামনে চলে আসে। লিজা মনে করেছে, অপহরণের ঘটনায় তাকে জড়ানো হবে, এ মামলায় সে আসামি হতে পারে। এজন্যই সে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা করে।’

থানায় জিডির পর মুক্তিপণ চাওয়া নম্বরটি ট্র‍্যাকিং করে লোকেশন দেখা হয়েছে কি না, পুলিশ সেই নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের ধরছে না কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বারী বলেন, ‘জিসানের সঙ্গে লিজার কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়ার পর ওদিকে আমরা দৃষ্টি দেইনি।’

লিজা ও তার বাবা-মাকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখার কারণ কী? এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘লিজা এই মুহূর্তে তার বাবার বাড়িতে আছে। ইচ্ছা করলে তার সঙ্গে আপনারা কথা বলতে পারেন।’

জিসানকে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন—এ বিষয়ে তিনি বলেন, লিজার করা মামলায় জিসান পুলিশ হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়পত্র দেওয়ার পর জিসানকে আদালতে তোলা হবে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। এই মুহূর্তে সবকিছু বলা যাবে না।

জিসান ইস্যুতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, গত শুক্রবার রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধিদল কিংবা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। এখনো জিসান পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। ফলে নিখোঁজসংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানার সুযোগ আমরা পাইনি। তাই নিখোঁজ কিংবা অপহরণের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো সোর্স এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।

তিনি আরো বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিধবা নারী লিজার বড় বোন জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক তাদের বাড়ি থেকে লিজাকে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিজা ও তার বাবাকে এখনো পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানান, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে থানায় নেওয়া, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতি—কোনো বিষয় সম্পর্কেই তিনি বিস্তারিত অবগত নন। কারণ তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের জিম্মায় থাকা তার বোন লিজা ও তার বাবার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারেননি। তবে তিনি জিসান ও লিজার প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত বলে জানান।

ছাত্রশিবির নেতা ফরহাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হইনি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আরো তিন

জিসান ছাড়াও মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে।

জিসানের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড

এদিকে জিসানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে। বাকি তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের।

এই কর্মকর্তা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভুক্তভোগী নারী লিজার স্বাস্থ্যপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগী লিজার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে বিধবা লিজা আক্তারের (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দিতে ভাড়া বাসায় নিয়ে লিজাকে ধর্ষণ করে জিসান। এরপর বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লিজাকে ধর্ষণ করে জিসান। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে জিসান ভিকটিম লিজাকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং বাচ্চা নষ্ট না করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে লিজা জীবনের ভয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হয়। এরপর জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট কিনে লিজাকে খাওয়ায়। ওষুধ খাওয়ার দুই-তিন দিন পর ভুক্তভোগীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে জিসানকে বিষয়টি জানায়। তখন জিসান তার চাচাত ভাই সজিবের মাধ্যমে পুনরায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে লিজার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে ভিকটিম লিজা বিয়ের জন্য তাকে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি জানায় সে। বিয়ে না করার টালবাহানায় ১১ জুন রাত আটটার পরপর জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যায়।‌

দাউদকান্দির মারুকা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস মিয়া আমার দেশকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ডিবি ও মহিলা পুলিশ লিজাকে ধরে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে গেছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

এ বিষয়ে জানতে লিজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগী লিজার মেডিকেল চেকআপ করা হয়েছে কিনা? ওই নারী যদি আসলেই ভিকটিম হয়ে থাকে তবে জিসান উদ্ধার হওয়ার আগেই কেন সে মামলা করল না— এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি মিটিংয়ে আছেন।

এর আগে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান মিয়া প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : সিকান্দার আবু সাইম

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করা অন্যায্য: ইসলামী আন্দোলন

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করা অন্যায্য: ইসলামী আন্দোলন

ad300