চলতি বছরের মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬২২ জন নিহত ও ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
আজ শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌ পথে ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জন, আহত ১৫ জন ও সাতজন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছে।
জাতীয়, আঞ্চলিক, অনলাইন এবং ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সড়ক দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলে ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন ১৩৯ চালক ও ১১০ জন পথচারী।
সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ দুর্ঘটনা ছিল মোটরসাইকেলের, ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাস এবং ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার মধ্যে ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ বিবিধ, ০ দশমিক ৩২ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।
দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০ দশমিক ৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৮০টি। এসব দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছে। কম দুর্ঘটনা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এ বিভাগে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে।
সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ছয়জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, আটজন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, দু্ইজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একআইনজীবী এবং তিনজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।
এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- দুইজন পুলিশ সদস্য, দুইজন বিজিবি সদস্য, একজন চিকিৎসক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৩৬ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, আটজন শিক্ষক, এক আইনজীবী এবং তিনজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, আইন না মানা, সড়কে খানাখন্দ ও অব্যবস্থাপনা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ফিটনেসবিহীন যান ও অদক্ষ চালক এবং বেপরোয়া মানসিককতা।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কিছু সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা, সড়কের অবকাঠামো ঠিক করা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোড সেফটি অডিট এবং চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা।
সিকান্দার আবু সাইম